Book

আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে এমন ৩টি বই

. আমার ভাগ্যে সফল হওয়া নেই!

‘আউটলায়ার্স’, বা বাংলায় বললে দাঁড়ায়, ‘বৃত্তের বাইরে’ –নামের বইটিতে লেখক পৃথিবীর তাবত পুরোধাদের উদাহরণ টেনেছেন। অর্থ-খ্যাতি-মেধা –যে বলেই হোক না কেন যারাই সফলকাম তাদের এক্কেবারে একজনও নেই যে কিনা ‘ভাগ্যবলে কোটিপতি’! তাহলে তাদের এমন কী ছিলো যেটা অন্যদের নেই?

বিল গেটসের কথাই ধরি। যখন ক্লাস এইটের ছাত্র তখন স্কুলের কম্পিউটার ক্লাব থেকে তার প্রোগ্রামিংয়ে হাতেখড়ি। গেটসের ভাষ্যমতে, এমন একটা সপ্তাহও যায়নি যখন অন্তত ৩০ ঘন্টা ঐ কম্পিউটার রুমে তিনি কাটান নি! মানে প্রত্যেকদিন কমসে কম ৪ ঘন্টা! আর সেসময়টাতে কম্পিউটারে কাজ হতো সময় ধরে, ঘন্টা হিসেবে টাইম-শেয়ারিং-টার্মিনাল ভাড়া পাওয়া যেত। এর মধ্যে আইএসআই (ইনফরমেশন সায়েন্স ইনকর্পোরোটেড) নামক এক প্রতিষ্ঠানে একটা সফটওয়্যার বানিয়ে দেয়ার বিনিময়ে গেটস পেলেন সেখানকার কম্পিউটারে ফ্রি কাজ করার সুযোগ। ঐ বছর, ১৯৭১ সালে, সাত মাসে ১,৫৭৫ ঘন্টা তিনি ব্যয় করেন কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের পেছনে। মানে হলো সপ্তাহে সাত দিন- প্রতিদিন ন্যূনতম আট ঘন্টা করে! হার্ভার্ডের স্নাতক পড়া মাঝপথে যখন তিনি ছেড়ে দিলেন তখন ইতোমধ্যে তিনি নিজের একটা সফটওয়্যার কোম্পানির মালিক। পড়ালেখা ছেড়ে দেয়ার মধ্যে কি তার পাগলামি ছিলো? নাকি ছিলো সাত বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম (১০,০০০ বা তারও বেশি ঘন্টার অনুশীলন!) করে পাওয়া ‘সৌভাগ্য’?

 

. মানুষ অভ্যাসের দাস, নাকি অভ্যাস মানুষের?

ভালো-মন্দ দুই ধরনের অভ্যাসই রয়েছে মানুষের জীবনে। কিন্তু ভালো বা মন্দ অভ্যাসের প্রভাব নিয়ে মানুষ বরাবরই উদাসীন। আর এই অভ্যাসগুলোকে একটু ঘেঁটে দেখতেই লেখা হয়েছে ‘দ্য পাওয়ার অব হ্যাবিট : হোয়াই উই ডু হোয়াট উই ডু ইন লাইফ অ্যান্ড বিজনেস’ বইটি। ভালো অভ্যাসগুলো কীভাবে আরো ভালো করা যায় এবং মন্দ অভ্যাসগুলোকে কীভাবে পরিবর্তন করা যায়, সে শিক্ষাই দেওয়া হয়েছে বইটিতে। বইয়ে বলা হয়েছে, ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিতে অনেক ক্ষেত্রেই অতি পরিচিত মহলের চেয়ে এসব সামান্য পরিচিত মহল বেশ কাজে দেয় যদি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। দূর থেকে স্বল্প পরিচিতদের একটি ইমেইল পাঠালে তা ব্যাপক ফলাফল বইয়ে নিয়ে আসতে পারে।

 

. ক্যারিয়ারের চাপ, ফ্যামিলি দূরে সরে যাচ্ছে। কি করি? কিভাবে সামলাই?

আমরা যারা নতুন ক্যারিয়ার শুরু করছি, হোক সেটা চাকরির ক্ষেত্রে অথবা ব্যবসার ক্ষেত্রে, শুরু সাথে সাথে অনেক বেশি চাপ থাকে। নতুন জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চাপ, নিজের আর্থিক অবস্থা স্ট্যাবল করার চাপ, কর্পোরেট লিংক ও সেটআপ গুছিয়ে নেওয়ার চাপ ইত্যাদির মাঝে শুরু হয় নতুন জীবন। আর এরই মাঝে আমরা অনেকেই গুলিয়ে ফেলি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে। ব্যক্তিগত জীবনের প্রায়োরিটিগুলো হারিয়ে যায় শত ব্যস্ততার মাঝে, যা পরবর্তীতে জীবনে অনেক বড় প্রভাব ফেলে বসে। যারা এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি প্রায়ই হচ্ছেন, তাদের জন্য অসাধারন একটি বই “নেভার ইট এলোন”। বইটিতে লেখক ক্যারিয়ারের শত ব্যস্ততার মাঝেও কিভাবে প্রায়োরিটিগুলো গুছিয়ে নিতে হয় তা খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। বইটি হয়তো পড়লে আপনার মনে হতে পারে, আসলেই, কত কিছু জীবনে মিস করে গেলাম।

কি, মনে হচ্ছে বইগুলো পড়া খুব জরুরী? তাহলে আজকেই শুরু করে দিন বইগুলো পড়া। বইগুলো পেতে পারেন Stygen এ। বইগুলো পড়ে ভালো লাগলে মনে মনে একটি ধন্যবাদ দিতে ভুলবেন না যেন!

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *