Book

জীবনকে গুছিয়ে নিতে ৩ টি বই

জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি বাঁকে সময় ও পরিস্থিতির সাথে তাল মেলানোর জন্য নিজেকে ডেভেলপ করতে হয়, তৈরি করতে হয় নিজেকে পরিস্থিতির সাথে মুখোমুখি হতে। কিন্তু অনেক সময়েই কিছু বেসিক জিনিস শুধু উপেক্ষা করার কারনে হয়ে যায় ভুল, যার মূল্য শোধ করতে হয় বেশ চড়া দামে। আজকে তাই এমন তিনটি ব্যাপার নিয়েই আমরা আলোচনা করবো, তার সাথে এর সমাধানও।

. সময় মেলাতে পারছি না!

আমাদের জীবনে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর সময়কেই আমরা সবচেয়ে অবহেলা করি। যদিও আমরা তা চাই না। কিন্তু তারপরেও এমনটা ঘটে। সময় ব্যবস্থাপনার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকারি জিনিস হচ্ছে কী করতে হবে না তা জানা এবং তা না করা। আর এই সময় ব্যবস্থাপনা নিয়েই চমৎকার একটি বই লিখেছেন ব্রায়ান ট্রেসি, বইটির নাম টাইম ম্যানেজম্যান্ট।

একজন নিন্মবিত্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর কাছে যে পরিমাণ সময় আছে, একজন কোটিপতি ব্যবসায়ীর কাছেও সমান পরিমাণে সময় আছে। পার্থক্য শুধু সময়ের ব্যবস্থাপনায়। যে যতবেশি কাযর্করীভাবে সময়ের ব্যবস্থাপনা করতে পারে সে ততবেশি সফল। আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূতর্ই গুরুতপূর্ণ। এক মিনিট সময়ও হেলায় পার করা আমাদের জন্য ক্ষতিকর। সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করা সময় ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। কাজ ও পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি নিজের জন্যও কিছু সময় বরাদ্দ রাখতে হয়। সকল দিক বিবেচনা করে সঠিকভাবে সময় ব্যবস্থাপনা খুব কম মানুষই করতে পারে। কিন্তু যারা করতে পারে তারাই সফলতার মুখ দেখতে পায়। সঠিকভাবে সময় ব্যবস্থাপনা করা হলে দুশ্চিন্তা কিংবা মানসিক চাপ দূর হয়ে যায়। বইটিতে সময় ব্যবস্থাপনার এই খুটিনাটি ব্যপারগুলোই তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও এই বইয়ের উল্লেখ করা কিছু পদ্ধতিও খুব কাজের। যেমন বইয়ে বলা আছে “কাজ অবশ্যই করবেন তবে আগে পরিকল্পনা করুন। আগে একটি সাদা কাগজ ও কলম নিয়ে বসুন। কাগজে আপনার সুবিধাগুলো লিখে ফেলুন। আপনার কী কী অসুবিধা আছে তাও লিখুন। স্পষ্টভাবে নিজের সুবিধাগুলো দেখুন এবং আপনার কাজ সম্পন্ন করতে আর কী কী দরকার তা সম্পর্কেও নির্দিষ্ট হোন”। এমন পদ্ধতিগুলো আরো জানতে বইটি পড়ে ফেলুন।

. হাতে পূঁজি খুবই কম, কিভাবে কি করবো?

আমাদের নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে এটা অনেক বড় একটা সমস্যা। হাতে যথেষ্ট বড় মূলদন নেই, তাই বিনিয়োগ করতে পারছেন না, নিজের কিছু শুরুও তাই করা হচ্ছে না।

তাহলে শুনুন পিটার থয়েলের কথা। বিখ্যাত অনলাইন আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পে-পাল এর ৫ প্রতিষ্ঠাতার একজন, পিটার থেইল । বাস্তবের আয়নম্যান খ্যাত  ইলন মাস্ক এবং আরও তিনজনের সাথে মিলে ১৯৯৮ সালে পে-পাল প্রতিষ্ঠা করেন পিটার থেইল। নিজের হাতে প্রায় শূণ্য অবস্থা থেকে পে-পাল কে একটি মাল্টি বিলিয়ন ডলার কোম্পানীতে পরিনত করেন তাঁরা।

যারা তাঁর ও তাঁর বন্ধুদের মত সফল হতে চান, তাদের জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার যে পিটার তাঁর সাফল্যের ফর্মূলা বিশ্বের সব উদ্যোক্তার হাতের নাগালে পৌঁছে দিয়েছেন। ফর্মূলার নাম “জিরো টু ওয়ান”।

তবে তাঁর এই ফর্মূলা আমাদের কাছে আসার একটি মজার গল্প আছে। কয়েক বছর আগে পিটার আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা বিষয়ক একটি লেকচার দিয়েছিলেন। লেকচারে তিনি একটি নতুন ব্যবসা শুরু করে তাকে বিলিয়ন ডলার কোম্পানীতে পরিনত করার কয়েকটি নীতির কথা বলেছিলেন। এই নীতি বা principles গুলো ব্লেক মাস্টার্স নামের এক ছাত্র সেখানে বসেই খাতায় বিস্তারিত ভাবে নোট করে নেন।

সেই নোট ফলো করে লোকজন এতটাই সাফল্য পেল যে তার সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। এই খবর জানার পর পিটার ব্লেক মাস্টার্সের সাথে মিলে সেই নোটটিকে আরও সমৃদ্ধ করে ‘জিরো টু ওয়ান‘ নামে একটি বই বের করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, তাঁর জ্ঞান থেকে যেন সারা পৃথিবীর মানুষ উপকার পায়।

যেহেতু আপনি এই লেখাটি পড়ছেন, সেহেতু আপনিও সেই মানুষদের একজন হতে চলেছেন। তাহলে আর দেরি করছেন কেন? বইটি সংগ্রহ করে আজই শুরু করে দিন রপ্ত করা।

. ব্যবহার করুন নিজের মনঃশক্তি

আমাদের মন বলতে যে একটা জিনিস রয়েছে , এর ক্ষমতা অপরিসীম। মানষিক ক্ষমতার জোরেই মানুষ কাজ করে। সবকিছুই আমাদের মনের ইচ্ছা ও অনীচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। আমাদের জীবনে আমরা প্রতিদিনই নানা সমস্যার সম্মুখীন হই। যে কারনেই হোক আমরা সারাদিনই ব্যস্ত থাকি। আমাদের মন সকল সময়েই ব্যস্ত। কোন কাজ করতে হলে আমাদের মন আগে তা লিপিবদ্ধ করে , পরে আমরা সেই কাজের প্রতি মনস্থীর হই এরপরে সেই কাজ করতে পারি। কোনো কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে মন পুনরায় চিন্তা শুরু করে। নতুন চিন্তা চেতনা কে দেহ মনে এবং কর্মে এমনভাবে প্রসারিত করে , যেনো সেটাই তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই মনোজগত শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যই এইভাবে কাজ করে তা নয় , সকলের জন্যই তা কাজ করে। মানষিক ক্ষমতার গোপন রহস্য বুঝতে পারলে কঠিন কাজ সহজ হয়ে যায়। এই গোপন রহস্য অনুধাবন ও তার যথাযথ প্রয়োগ সম্পর্কে জানার জন্য অসাধারন একটি বই মাইন্ড পাওয়ার দি সিক্রেট অব মেন্টাল ম্যাজিক’।

বইটির লেখক উইলিয়াম ওয়াকার এটকিনসন এ বইয়ে বলেছেন, প্রতিটি প্রাপ্ত বয়সক ব্যক্তি প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্য দিন কাটায়। এই ব্যস্ত সময় মানুষের মন সব সময় শান্ত থাকে না, বেশিরভাগ সময় মানুষের মন বিক্ষিপ্ত চিন্তার দ্বারা আবর্তিত থাকে। তবুও মানুষ প্রতিনিয়ত কাজ করছে, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছে। এক রহস্যময়তা দিয়ে ঘিরা মানুষের এই মনোজগৎ। মানুষের মনোজগৎ কিভাবে কাজ করে, কিভাবে মানুষ মানসিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে সেই রহস্য এই বইটিতে উপস্থাপন করেছেন লেখক। মনোস্থাত্ত্বিক বিভিন্ন বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে।

বইগুলো কোথায় পাবেন ভাবছেন? ভিজিট করুন এই লিংকে  আর কিনে ফেলুন বই তিনটি একসাথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *